logo

উইমেন’স ইনোভেশন ক্যাম্প কি?

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম তার সূচনালগ্ন থেকেই নারীর সমতাকে সমর্থন করে আসছে এবং নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এটুআই প্রোগ্রাম মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সাথে যৌথভাবে “উইমেন’স ইনোভেশন ক্যাম্প” প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা চিহ্নিত করা এবং একটি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নারীদের দ্বারা এগুলোর উদ্ভাবনী সমাধান আহবান করা। প্রতিযোগিতায় শীর্ষ সেরা উদ্ভাবনী সমাধানের জন্য পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং বাস্তবায়নোপযোগী সমাধানগুলোকে সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক অনুদান ও কারিগরী সহায়তা প্রদান করা হয়।

উইমেন’স ইনোভেশন ক্যাম্প ২০১৬ এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এটুআই প্রোগ্রাম চলতি বছরও “উইমেন’স ইনোভেশন ক্যাম্প” আয়োজন করতে যাচ্ছে, যা সকল পর্যায়ের নারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। উইমেন’স ইনোভেশন ক্যাম্প ২০১৭ এর জন্য গোলটেবিল বৈঠক থেকে নারীদের সমস্যা সনাক্ত করা হয়েছে এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উদ্ভাবনী সমাধান আহ্বানের জন্য কয়েকটি সমস্যা নির্বাচন করা হয়েছে। অনলাইনে সারা দেশ থেকে চিহ্নিত সমস্যা সমূহের উদ্ভাবনী সমাধান প্রদানের সুযোগ থাকছে। কার্যকর ও বাস্তবায়নযোগ্য শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবন সমূহ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে চুড়ান্ত মনোনয়নের দিকে।

প্রস্তাব জমাদেবার শেষ তারিখ
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭



logo

সমস্যার ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ আলোচনা

ক্ষেত্র ১ঃ নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ


যদিও বাংলাদেশ গুটি গুটি পায়ে ইন্টারনেট যুগে প্রবেশ করছে, অসাধু গোষ্ঠি ও হ্যাকারদের কাছ থেকে তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। যদিও এই সমস্যাগুলো নিরসন করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আইন জারি করা হয়েছে, পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও প্রযুক্তির অভাবে এ আইনগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। যদিও বেশিরভাগ সাইবার অপরাধে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মূলত নারীরাই অপদস্থ ও হয়রানি হন। এসকল পরিস্থিতির উপর তাদের কোনও নিয়ন্ত্রণও থাকে না। প্রায়শঃই অভিযোগ পাওয়া যায় যে অনলাইনে কোনও নারীর আপত্তিজনক অবস্থায় তোলা ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। উপরন্তু, প্রায়ই ফটোশপ এ আপত্তিজনক ভুয়া ছবি তৈরী করে অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়ে বহু নারীর চরিত্রহনন করার চেষ্টা হয়েছে। এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া প্রয়োজন।

ক্ষেত্র ২ঃ কর্মজীবী মা’দের বিড়ম্বনা


বাংলাদেশের নারীরা ক্রমান্বয়ে কর্মমুখী হয়ে উঠছেন। শহরাঞ্চলে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই একজন উচ্চশিক্ষিত কর্মক্ষম নারী রয়েছেন। অথচ প্রায় সর্বক্ষেত্রেই তাঁরা বিয়ের পর বা সন্তান ধারণের পর পেশাগত জীবন থেকে বিদায় নেন। এসকল নারীর অনেক বড় দুটি সমস্যা হল তাঁদের অনুপস্থিতিতে সন্তানদের যত্ন নেওয়া ও তাদেরকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা। চাকুরী করতে চাইলে তাঁদের সামনে দুটি মাত্র পথ খোলা থাকে – হয় সন্তানদেরকে পরিবারের কোনও বয়স্ক সদস্যের কাছে রেখে কর্মক্ষেত্রে যাওয়া, অথবা কাজের লোকের কাছে দায়িত্ব দিয়ে যাওয়া। এই দুটির একটিও খুব একটা কার্যকরী না এবং বেশিরভাগ কর্মজীবী নারীর সামর্থ্যের বাহিরে। উপরন্তু, বাড়ি থেকে কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত দুরত্ব ও যাতায়াত সময়সাপেক্ষ হওয়ার কারণে কর্মজীবী নারীরা চাইলেও তাঁদের সন্তানদেরকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া বা আসা করতে পারেন না, বা তাদের লেখাপড়ার দিকেও নজর দিতে পারেন না। মূলত একারণেই কর্মজীবী নারীরা বাধ্য হন চাকুরী ছেড়ে দিয়ে সন্তান-লালনে মনোনিবেশ করতে। 

ক্ষেত্র ৩ঃ নারীর সম্ভাবনাময় দক্ষতার ব্যবহার


আমাদের বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থায় সংসারের দেখভাল করা, সন্তান লালন-পালন করা এবং পরিবারের সকলের রান্না-বান্না করা শুধু পরিবারের নারী সদস্যেরদেরই দায়িত্ব। এসব কাজে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের কাছ থেকে কোনও সহায়তা পাওয়া যায় না বললেই চলে। পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ করতে ও সমাজের মুখের দিকে তাকিয়ে আমাদের কোটি কোটি নারী তাঁদের পেশাদার জীবনকে বিদায় জানাচ্ছেন। তবে পেশাদার নারীরা দেশের শ্রমবাজারকে এভাবে বিদায় না জানালও চলে। তাঁরা চাইলে ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারেন। এই অব্যবহৃত শ্রমশক্তিকে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করা গেলে এই নারীরাও জাতীয় অর্থনীতিতে অপরিসীম অবদান রাখতে পারবেন।

ক্ষেত্র ৪ঃ বৃদ্ধ নারীদের বিবিধ সমস্যা


সারাজীবন পরিবারের সদস্যদের ভারনির্বাহ করার পরে বৃদ্ধ বয়সে নারীরা সঙ্গিন অবস্থায় পতিত হন। সংসারকর্মে বুঁদ হয়ে থাকায় বেশিরভাগ নারীই অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য কিছুই করতে পারেন না। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না হওয়ার কারণে পরিবারের তরুণতর সদস্যরা তাঁদেরকে বোঝা হিসেবে দেখেন। বয়স যতই বাড়ে, ততই তাঁদের বঞ্চনাও বাড়ে। এমনকি অনেক সুশীল পরিবারেও বৃদ্ধাদের নিগ্রহ পরিলক্ষিত হয়। 


প্রস্তাব জমাদেবার শেষ তারিখ
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭


logo

প্রক্রিয়া

যে সকল ধাপে ফান্ড প্রক্রিয়া করা হবে
সমস্যা শনাক্তকরণ
কর্মশালা
উদ্বোধন এবং
প্রচারাভিযান
প্রাথমিক
বাছাই
উপস্থাপনার মাধ্যমে
২য় ধাপে যাচাই
গ্রুমিং এবং
বুট ক্যাম্প
চূড়ান্ত
পর্ব।
প্রস্তাব জমাদেবার শেষ তারিখ
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭


FAQ


1

কে আবেদন করতে পারবেন?

একক বা দলীয়ভাবে শুধুমাত্র নারীরা আবেদন করতে পারবেন ।

1

কোন বয়সের বিধি নিষেধ আছে কি?

না। যেকোন বয়সের নারীরা আবেদন করতে পারবে।

1

কি ধরনের সমাধান দেয়া যাবে?

প্রযুক্তিভিত্তিক এবং বাস্তবায়নযোগ্য যে কোনো উদ্ভাবনী সমাধান দাখিল করা যাবে।

1

বাছাই প্রক্রিয়ায় কতগুলো ধাপ আছে?

তিনটি ধাপ। প্রাক প্রাথমিক যাচাই, প্রাথমিক বাছাই এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মূল্যায়ন।

1

বিজয়ীদের জন্য পুরষ্কারের আর্থিক পরিমান কত?

প্রতিটি বিজয়ী দলকে পুরস্কার হিসাবে 100,000 টাকা প্রদান করা হবে (কর প্রযোজ্য)। বিজয়ী প্রকল্পগুলির জন্য প্রযুক্তিগত ও বাস্তবায়ন অংশীদার পাওয়া গেলে, উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন খরচ যাচাই করে সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড প্রদান করা সম্ভব।

1

কবে ফলাফল প্রকাশ করা হবে?

কারিগরি বিশেষজ্ঞ প্যানেল কর্তৃক মূল্যায়নের সমাপ্ত হওয়ার সাথে সাথেই বাছাইকৃত প্রকল্পের আবেদনকারীদের সাথে এটুআই থেকে যোগাযোগ করা হবে।

1

এটুআই থেকে কোন ইমেইল না পেলে কী করবো?

স্বাভাবিকভাবে বিজয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ কোন ইমেইল না পাওয়া গেলে ধরে নিতে হবে আপনার প্রকল্পটি বাছাইকৃত হয়নি।

1

কোন প্রকার কারিগরি সমস্যার ক্ষেত্রে কোথায় যোগাযোগ করবো?

কারিগরি সমস্যার ক্ষেত্রে womensinnovationcamp@gmail.com এই ই-মেইল আইডিতে যোগাযোগ করুন।