প্রকল্প সমূহ

মোবাইল ফোনে জাদুঘর দর্শন
নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরিবেশ বান্ধব বায়োলজিক্যাল সোলার সিস্টেম

আইনি সিদ্ধান্তের ডিজিটাইজেশন


বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং সিদ্ধান্তসমূহ আইনের অন্যতম উৎস হলেও সেটা জনগণের নাগালের বাইরে। উচ্চ সঙ্গতিসম্পন্ন আইনজীবীদের চেম্বার, বার সমিতির লাইব্রেরী এবং বিচারকদের লাইব্রেরীতে সংরক্ষণ করা হয়। তাও সবগুলি একস্থানে সংরক্ষিত হয় না। অনেক আগের ঢাকা ল’ রিপোর্ট বা ডিএলআর থেকে এগুলো খুঁজে নেওয়া তাদের জন্যও বেশ কষ্টসাধ্য। ছাত্র, বিচারক, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন কর্মীসহ সকলের জন্য উচ্চ আদালতের রায় জানা প্রয়োজন হলেও তারা সেটা পান না। এমন অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আইনগত সিদ্ধান্তগুলোকে একটা ডাটাবেসের মধ্য নিয়ে আসতে এই প্রকল্প।

চিহ্নিত সমস্যা এবং প্রস্তাবিত সমাধান

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত রায় এবং সিদ্ধান্তসমূহ আইনের অন্যতম প্রধান উৎস হলেও বাংলাদেশের জনগণের জন্য সেগুলো জানার কোন সরাসরি ব্যবস্থা নেই। ব্রিটিশ আমল থেকে উচ্চ আদালতের রায়কে ল’ রিপোর্টস অ্যাক্ট, ১৮৭৫ এর অধীনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ল’ রিপোর্টাররা ল’ রিপোর্ট আকারে প্রকাশ করে আসছে। কিন্তু সেসব ল’ রিপোর্ট শুধুমাত্র কতিপয় উচ্চ সঙ্গতিসম্পন্ন আইনজীবীদের চেম্বার, বার সমিতির লাইব্রেরী এবং বিচারকদের লাইব্রেরীতে সংরক্ষণ করা হয়। তাও সবগুলি একস্থানে সংরক্ষিত হয় না। সেইসব লাইব্রেরীতে শুধুমাত্র যোগ্যতাসম্পন্ন সদস্য আইনজীবীরাই যেতে পারেন। এগুলি ক্রয় করা অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ, রাখার জন্য যে স্থান সংকুলান করা প্রয়োজন তা সবার জন্য সম্ভব নয় এবং ছাপার জন্য প্রচুর কাগজ ব্যবহার হয় বলে তা পরিবেশ বান্ধব নয়। ছাত্র, বিচারক, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন কর্মীসহ সকলের জন্য উচ্চ আদালতের রায় জানা প্রয়োজন হয় কিন্তু এ ব্যাপারে নানারকম অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের থাকতে হয়। খুঁজে পাওয়ার অনিশ্চয়তা, সময়ের অপব্যবহার, অনাবশ্যক খরচ, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, অতিরিক্ত স্থান দখলকারী বর্তমান ব্যবস্থা সাধারণ মানুষকে হয়রানির মধ্যে ফেলে দেয়।

এই উদ্ভাবনে ৪৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের ভূমিতে উচ্চ আদালত প্রদত্ত এবং ল’ রিপোর্ট গুলোতে প্রকাশিত রায়গুলো বিষয়ভিত্তিক শ্রেণিবদ্ধরূপে পাওয়া যাবে। যেমন: মামলার রেফারেন্স, মামলার শিরোনাম, রায়ের তারিখ, সুনির্দিষ্ট আইনের ধারা, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনি বিষয়, সুপ্রীম কোর্টের কোন বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত এই সব সার্চ অপশনসহ পাওয়া যাবে। এই উদ্ভাবনের ফলে বাংলাদেশের জনগণ সহসাই এক বিপুল আইনী সিদ্ধান্ত ও তথ্যের সহজগম্যতা লাভ করবে যার দ্বারা জনগণের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং কর্মজীবন নিয়ন্ত্রিত হয়। এর ফলে জনগণের ক্ষমতায়ন সমুন্নত হবে। নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সহ সকল প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে এবং তাদের সার্বিক জীবনাচরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।