প্রকল্প সমূহ

বায়োমেট্রিক পোস্টাল ক্যাশকার্ডের (স্মার্ট কার্ডের)মাধ্যমে ডাক বিভাগের সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাব পরিচালনা।
আইনি সিদ্ধান্তের ডিজিটাইজেশন

মোবাইল ফোনে জাদুঘর দর্শন


কমবেশি ৫০ লাখ মানুষ প্রতিবছর বাংলাদেশের বিভিন্ন জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করে। কমবেশি ৫০০ স্কুল ও কলেজ জাতীয় জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থানে তাদের শিক্ষাসফর আয়োজন করে। এই দর্শনার্থীরা বর্তমান জাদুঘরের গ্যালারির ও ঐতিহাসিক স্থানের তথ্য সেবা সেভাবে পান না। এ কারণে বর্তমান সময়ের সমাধান হিসাবে ক্যাটালগ প্রকাশ এবং পেপার উপস্থাপনের মাধ্যমে গবেষক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিকে হয়তো তথ্য দেওয়া হয়; কিন্তু সাধারণ মানুষ ও নিঁচু শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সেটার নাগাল পান না। মোবাইল ফোনে জাদুঘর দর্শন একেবারে কম খরচে বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে পৌছানোর মাধ্যম, যেটা একেবারে প্রান্তিকের মানুষকে নিজ দেশের ঐতিহ্য দেখিয়ে গর্বিত এবং সেটা সংরক্ষণে আগ্রহী করতে পারে। দি সেন্টার ফর হেরিটেজ এডুকেশন বাংলাদেশ মোবাইল ফোনে জাদুঘর দর্শনের এই প্রকল্প এগিয়ে নেবে। এতে হাতের মুঠোয় চলে আসবে জাদুঘর পরিদর্শন।

চিহ্নিত সমস্যা এবং প্রস্তাবিত সমাধান

সম্পদের অভাবে বাংলাদেশের জাদুঘরগুলো গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলোকে কেবল ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে। সেগুলো সম্পর্কে খুব কম তথ্য প্রদান করে তারা; এমনকি গ্যালারিতেও একই অবস্থা বিদ্যমান। খুব কমক্ষেত্রে বাংলা ও ইংরেজির তথ্য একসঙ্গে আছে। ঐতিহাসিক স্থানের ম্যাপ ও দেওয়ালে গ্যালারির সূচনা বক্তব্য এবং প্রদর্শিত অনেক বস্তুতে দর্শনার্থীর আগ্রহোদ্দীপক তথ্যাবলি অনুপস্থিত থাকে। জাদুঘরের ক্যাটালগ কেনাও অধিকাংশ বাংলাদেশির সামর্থ্যের বাইরে। এর বিপরীতে ছোট কিশোরও জাদুঘরে মুঠোফোন নিয়ে যায়। কারণ এটা এখন তাদের তথ্যে প্রাথমিক উৎস এবং বন্ধু কিংবা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম। সাধারণত জাদুঘর অভ্যন্তরে তাদেরকে ছবি তুলতে দেওয়া না হলেও নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেক সময় আকর্ষণীয় বস্তুর সঙ্গে সেলফি তুলে নেয় তারা। স্বেচ্ছাসেবিতার সংস্কৃতির অভাব, জাদুঘরে কোনো গাইড না থাকা এবং অন্য ট্যুর গাইডদের প্রশিক্ষিত না করায় দর্শনার্থীরা সেভাবে জাদুঘর উপভোগ করতে পারেন না। অধিকাংশ দর্শনার্থী নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য খুব কম জেনে জাদুঘর ত্যাগ করেন এবং পুনর্বার সেখানে আসার ইচ্ছা খুব কমের ক্ষেত্রে তৈরি হয়।

দি সেন্টার ফর হেরিটেজ এডুকেশন বাংলাদেশ জাদুঘরসমূহের মোবাইল ফোন ট্যুর নিয়ে কাজ করবে। যাতে সহায়তা দিচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। মোবাইল ট্যুরে ঐতিহাসিক বস্তুর ছবি, বাংলা-ইংরেজি বর্ণনা, মৌখিক তথ্য ও গান, সংক্ষিপ্ত ভিডিও এবং জাদুঘর দেখার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া চাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। মোবাইল ফোনে ট্যুরের অংশ হিসাবে দর্শনার্থীরা তাদের মোবাইলে ছবি ও তথ্য ডাউনলোড করতে পারবেন। একইসঙ্গে সরাসরি যেতে পারবেন জাদুঘরের ওয়েবসাইটে এবং পরবর্তীতে নিজেদের কাজের জন্য তথ্য ব্যবহার করতে পারবেন।